শিবগঞ্জে শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অনুপস্থিত হয়েও হাজিরা খাতায় শতভাগ সই করার অভিযোগ

🕒 আপডেট: জুন ২, ২০২৪, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ


শিবগঞ্জ প্রতিনিধি:


শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় শতভাগ হাজিরা সই করার অভিযোগ উঠেছে এক মাদ্রাসা শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের গোয়াবাড়ি চাঁদপুর দাখিল মাদ্রাসা। অবৈধভাবে স্বাক্ষরকারী শিক্ষিকা হলেন এবতেদায়ীর শিক্ষিকা মোসা. ফিরোজা খাতুন। ওই শিক্ষিকার স্বামী মনিরুল ইসলাম মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হওয়ার সুবাদে তাঁর রাজশাহীর বাড়িতে অবস্থান করেও সপ্তাহে দুই দিন মাদ্রাসায় এসে পুরো সপ্তাহের সই করেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

এছাড়া মাদ্রাসার সুপার মো. রইসুদ্দিন জানান শুধু মৌখিকভাবেই নয় একাধিকবার লিখিত সতর্ককরণ নোটিশ ও হাজিরা খাতায় সই করতে নিষেধ করার পরও তিনি হাজিরা খাতায় সই করেন এবং তাঁর স্বামী কমিটির সভাপতিকে সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বলেও জানা গেছে। গত কয়েকদিন থেকে অভিযুক্ত শিক্ষিকা মোসা. ফিরোজা খাতুনকে মাদ্রাসায় উপস্থিত হতে দেখতে যায়নি বলে এলাকাবাসীর জানান।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে মাদ্রাসাটি স্থাপিত হলে শুরু থেকেই এবতেদায়ী শিক্ষিকা মোসা. ফিরোজা খাতুন নিয়োগ পান। ২০২২ সালে বর্তমান মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হলেও তিনি মাঝে মধ্যে মাদ্রাসায় আসেন এবং শিক্ষক হাজিরা খাতায় পুরো মাসের সই করেন।

এদিকে, মাদ্রাসার চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, ফিরোজা ম্যাডাম মাদ্রাসায় ঠিকমত আসেন না। তিনি কোন সপ্তাহে একদিন আবার কোন সপ্তাহে দু’দিন আসেন। আমাদের পড়াশোনা ঠিকমত হচ্ছে না ফিরোজা ম্যাডামের জন্য। তাঁর ক্লাস থেকে আমরা বঞ্চিত। এছাড়া নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক স্থানীয়দের দাবি একজন শিক্ষিকা মাদ্রাসায় উপস্থিত না হয়েও বেতন ভাতা ভোগ করবেন এটি কি করে সম্ভব? কিভাবে বেতন-ভাতা পান? মাদ্রাসার কমিটির সভাপতি ওই শিক্ষিকার স্বামী বলে যা ইচ্ছে তাই করবেন? আমরা এই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে সুষ্ঠ তদন্ত-পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট জোর আবেদন করছি।

এব্যাপারে এবতেদায়ী শিক্ষিকা মোসা. ফিরোজা খাতুনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে মাদ্রাসার সভাপতি মো. মনিরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে তাঁর সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা চেষ্টা করা হলেও তিনিও ফোন রিসিভ না করায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মীর মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, কেউ কোন লিখিত অভিযোগ না করায় বিষয়টি জানতে পারিনি। এখন জানলাম,সঠিক তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।