জমি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গোমস্তাপুরের আহত ব্যক্তির মৃত্যু
গোমস্তাপুর( চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধি:চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর ও নওগাঁর নিয়ামতপুর এই দুই উপজেলার জমিজমা দ্বন্দ্বের জেরে জয়নাল (৪৫) নামে আহত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৭ মার্চ) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তিনি গোমস্তাপুর উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের শেরপুর গ্রামের বাসিন্দা মাহবুবুর রহমানের ছেলে। তবে গত ২৪ মার্চ থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। তবে এলাকায় ওই দুই গ্রুপকে মেদনী ও খোঠঠা বংশ নামে ডেকে থাকে।
জমি নিয়ে দুই গ্রুপের মেদনী গ্রুপে রয়েছে তরিক মাস্টার ও খোঠঠা বংশে রয়েছেন সাবিরুদ্দিন। তবে ওই এলাকায় গোমস্তাপুর ও নিয়ামতপুর থানা পুলিশ টহলে রয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, খোঠঠা বংশের সাবিরউদ্দীন কয়েক বিঘা জমি দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করতেন। ওই জমির মালিকানার দাবিতে মেদনী বংশের তরিক মাস্টার আদালতে মামলা করলে কয়েক বছর সেটি পতিত ছিল। সম্প্রতি আদালতের ডিক্রি পেয়ে ওই জমির দখলে যান তরিক মাস্টার। এ নিয়েই দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১২ জন আহত হন।
জমি নিয়ে দুই গ্রুপের এছাড়াও ভাঙচুর করা হয়েছে দোকানঘর, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাড়িঘর। ওই ঘটনার পর থেকে আড্ডাবাজারে দফায় দফায় সংঘর্ষে দোকানপাঠ বন্ধ করে দেয় ব্যবসায়ীরা । আবারও সংঘর্ষের আশঙ্কায় অনেক দোকানীরা ভয়ে দোকানপাট খুলছেন না। এই পরিস্থিতিতে চরম বেকায়দায় পড়েছেন সাধারণ জনগণ । এদিকে বুধবার ওই এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ঘটনার তিনদিন হয়ে গেলেও এখনও পরিস্থিতি থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। এখনও আড্ডা বাজারের অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে নেয়ামতপুর থানা ও গোমস্তাপুর থানার পুলিশ সদস্যদের টহল দিতে দেখা গেছে।
জমি নিয়ে দুই গ্রুপের নিহতের আত্মীয় শাহীন জানান, জয়নাল ঘটনার দিন বাড়ির পাশে বসে মোবাইলে কথা বলছিলেন। পরে তারা তাঁকে ধরে নিয়ে বেদম প্রহার করে জখম করে। তবে এই ঘটনা বিষয় তিনি কিছুই জানতেন না। বুধবার সকালে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তাঁকে দেখতে যাওয়ার পথে জানতে পারেন সকাল সাতটার দিকে জয়নাল মারা গেছেন।
এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ চৌধুরী জোবায়ের আহমদ বলেন ঘটনার পর দুই পক্ষের মামলা নেওয়া হয়েছে । এলাকায় পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে।