মহাভারতের উল্লেখ এক নদীর নাম আত্রাই

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁয় পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদানের পর থেকেই নওগাঁর বিভিন্ন উপজেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখার মাধ্যমে বেশ প্রশংসা কুড়িয়ে চলেছেন মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। বিশেষ করে নওগাঁর নদীগুলোর ইতিহাস তুলে ধরে নদীগুলোকে বাঁচানোর আঁকুতি নিয়ে লেখা ইতোমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
এছাড়া নওগাঁর যানজট নিরসনে দৃশ্যমান ভূমিকা, অভিযানের মাধ্যমে মাদকের বড় বড় চালান আটক করা, চিহ্নিত আসামী ও সন্ত্রাসীদের আটকের মাধ্যমে নওগাঁর সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রাখতে গৃহিত পদক্ষেপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইতোমধ্যেই নওগাঁবাসীর কাছে একজন বিশ্বস্ত মানুষ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি তিনি নওগাঁর প্রধান নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম আত্রাই নদীকে নিয়ে অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে তথ্য সমৃদ্ধ একটি লেখা শেয়ার করেছেন। তিনি সেখানে যা লিখেছেন- ‘আমি দাঁড়িয়ে আছি নওগাঁ জেলার বিখ্যাত আত্রাই নদীর পাড়ে। অনেক গবেষক বলে থাকেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত “আমাদের ছোট নদী” কবিতাটি আত্রাই নদীরই একটি উপনদী “নাগর নদী”কে কেন্দ্র করে লেখা, যা নওগাঁর পতিসর গ্রামে অবস্থিত। যা কবির কুঠিবাড়ি পতিসরের পাশ দিয়ে বয়ে যেত, যদিও অনেকে মনে করেন এটি কুষ্টিয়ার গড়াই নদীকে নিয়ে লেখা, তবে নাগর নদীই এর মূল ভিত্তি।
আত্রাই নদী ব্রহ্মপুত্রের সর্বপশ্চিমের শাখানদী। মহাভারত-এ বর্ণিত পবিত্র নদীসমূহের মধ্যে একটি। এর প্রাচীন নাম ‘আত্রেই’। পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি শহরের ১০ কি.মি. উত্তরপূর্বে নদীটির উৎপত্তিস্থল সেখান থেকে এটি যমুনা নদীর পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। দিনাজপুর জেলার খানসামা উপজেলা থেকে করতোয়া নদী আত্রাই নাম ধারণ করেছে।
নওগাঁ জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা দিয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। অতঃপর নদীটি বরেন্দ্রভূমি-র মধ্য অংশকে পূর্ব এবং পশ্চিম এ’দু ভাগে বিভক্ত করে মান্দা উপজেলার মধ্যদিয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হতে হতে নদীটি দক্ষিণ-পূর্বে মোড় নিয়ে প্রথমে চলন বিল এর মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাঘাবাড়ির কাছে যমুনা নদীতে পতিত হয়েছে (উৎস বাংলাপিডিয়া এবং বিভিন্ন ওপেন সোর্স)। আত্রাই নদী বাংলাদেশ-ভারতের একটি আন্তঃসীমান্ত নদী। নদীটির বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ২৬৯ কিলোমিটার। একসময় আত্রাই নদীটি আগে উত্তর বাংলার বিখ্যাত নদী ছিল।
আত্রাই নদী থেকে আত্রাই উপজেলার নামকরণ হয়েছে, কারণ এই নদীটি এই অঞ্চলের বুক চিরে প্রবাহিত এবং উপজেলার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যা ব্রিটিশ আমলে একটি থানা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আত্রাই নামে পরিচিতি লাভ করে। কালের পরিক্রমায় নওগাঁর আত্রাই নদীসহ এর শাখা-প্রশাখাগুলো ভরাট হয়ে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং মানুষের অসচেতনতার কারণে বিখ্যাত এই নদীটি অনেকটাই দুর্বল হয়ে গেছে। নদীতে পানির প্রবাহ শুকনো মৌসুমে অনেকটাই কম।
মনে রাখতে হবে শত শত নদী মানুষের দেহের শিরা-উপশিরার মতো সারা বাংলাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে। বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় এখনো এই নদীর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। নদী রক্ষার দায় শুধু সরকারের নয়, এই দায় আমাদের সকলের। চলুন আমরা সবাই মিলে বিখ্যাত আত্রাই নদীকে বাঁচিয়ে রাখি আগামী প্রজন্মের টেকসই নওগাঁর জন্য।