গ্রাম থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাফল্য ১৫ বছর পর দেশে ফিরলেন মহাকাশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মিয়াহ মুহাম্মদ আদেল

🕒 আপডেট: ডিসেম্বর ২৩, ২০২৫, ২:১৪ অপরাহ্ণ


খাদেমুল ইসলাম, বাগাতিপাড়া প্রতিনিধি :


দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের মাটিতে পা রেখেছেন মহাকাশ বিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অধ্যাপক ড. মিয়াহ মুহাম্মদ আদেল, পিএইচডি। তিনি গত ২১ ডিসেম্বর বাংলাদেশে আসেন এবং বর্তমানে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের ভিতরভাগ গ্রামে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। তিনি ওই গ্রামের মরহুম মহসিন হাজী প্রামাণিকের ছেলে। আগামী ২৮ ডিসেম্বর তিনি পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

ড. আদেল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টহরাবৎংরঃু ড়ভ অৎশধহংধং ধঃ চরহব ইষঁভভ (টঅচই)-এ পদার্থবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি মহাকাশ পদার্থবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ বিজ্ঞান ও জলসম্পদ বিষয়ক গবেষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত।

দীর্ঘদিন পর নিজ এলাকায় তার আগমনে আত্মীয়স্বজন, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়। অনেক তরুণ শিক্ষার্থী এই সুযোগে উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞানচর্চা ও গবেষণা বিষয়ে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন।

বর্ষীয়ান বিজ্ঞানী ড. মিয়াহ মুহাম্মদ আদেল একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ঘঅঝঅ-এর “ঐবৎব ঃড় ঙনংবৎাব (ঐ২ঙ)” কর্মসূচির প্রধান তদন্তকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি ঝঞঊগ শিক্ষার্থীদের বাস্তব বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যুক্ত করছেন।

এ বিষয়ে ড. আদেল বলেন, “১৫ বছর পর দেশের মাটিতে, বিশেষ করে নিজের গ্রামে ফিরে আসা আমার জন্য আবেগঘন। এখান থেকেই আমার শিক্ষাজীবনের স্বপ্নের শুরু। ভবিষ্যতে দেশের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও গবেষণায় আরও আগ্রহী করে তুলতে কিছু উদ্যোগ নেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে।”

এ বিষয়ে জামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রাব্বানী বলেন, “ড. মিয়াহ মুহাম্মদ আদেল আমাদের ইউনিয়নের গর্ব। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সাফল্য স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমরা শিক্ষা ও বিজ্ঞানভিত্তিক যেকোনো উদ্যোগে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।”

ভিতরভাগ গ্রামের আশিকুর রহমান নিরব নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “ড. আদেল স্যারের সঙ্গে কথা বলে আমরা অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি। তিনি আমাদের বুঝিয়েছেন যে গ্রাম থেকে শুরু করেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী হওয়া সম্ভব। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার সাহস ও আত্মবিশ্বাস আমরা তার কাছ থেকে পেয়েছি।”

বাগাতিপাড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক আরিফুল ইসলাম তপু বলেন, “ড. মিয়াহ মুহাম্মদ আদেলের মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের বিজ্ঞানীর নিজ এলাকায় আগমন আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তার এই আসা স্থানীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করবে। এই এলাকার শিক্ষার্থীরাও যে পরিশ্রম ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে ড. আদেল তার বাস্তব উদাহরণ।”

উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ কামরুল ইসলাম মনে করেন, “ড. আদেলের এই স্বল্প সময়ের সফরও বাগাতিপাড়ার শিক্ষাঙ্গনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।”