তানোরে সারের কৃত্রিম সঙ্কট, জালিয়াতচক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন
জেলার তানোরে সারের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হয়েছে। একশ্রেণির সার ডিলারের বিরুদ্ধে সারের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ডিএপি সারের ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় ৫০০ টাকা বেশি দাম নেয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি বস্তা সার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১০০ টাকায়। যা এক মাস আগেও ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিএডিসির এমওপি প্রতি বস্তা ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৫০ টাকা এবং টিএসপি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কেউ রশিদ দিচ্ছে না, রশিদ চাইলে সার দেয়া হচ্ছে না। আশঙ্কা করা হচ্ছে সার সংকটের ফলে উৎপাদন অন্তত ২৫ শতাংশ কম হবে।
সার নিয়ে কারসাজি শুধু তানোর উপজেলাতেই নয়Ñ বরেন্দ্র অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সারের কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করা হচ্ছে। সময়মতো জমিতে সার দিতে না পারায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকগণ। তবে কৃষি বিভাগ এ সংকটকে ‘কৃত্রিম’ বলে দাবি করছে। তাদের মতে, সারের কোনো ঘাটতি নেই। বিএডিসি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত আছে। তবে কিছু অসাধু ডিলার বেশি মুনাফার লোভে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
অভিযোগ রয়েছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সরাসরি কৃষকের কাছে সার বিক্রির নিয়ম থাকলেও ডিলাররা গোপনে অতিরিক্ত দামে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সার বিক্রি করছে। আবার কেউ কেউ গুদামে সার মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, কেউ পাচার করছেন জেলার বাইরে। সারা দেশের জেলা ও উপজেলা ডিলাররা একই কারসাজি করে কৃত্রিম সার সংকট করে যাচ্ছে বছরের পর বছর।
সার নিয়ে নৈরাজ্য মাসদুয়েক থেকে চলমান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনি কর্তৃক বিভিন্ন স্থানে পাচারের সময় সার আটক করার খবর সংবাদ মাধ্যমে এসেছে। কিন্তু সার সঙ্কটের বিষয়টি যতটা গুরুত্ব বিবেচনা করা দরকার- সে ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অর্থাৎ সুষ্ঠু ব্যবস্থপনার মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কিংবা ভর্তুকি মূল্যে সার কৃষকের কাছে সহজলভ্য হচ্ছে না। অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে এই পরিস্থিতি কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।
বাংলাদেশে সার একটি সংবেদনশীল বিষয়। সারসহ কৃষি উপকরণের সাথে কৃষকের গভীর সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। এ দেশে সারের জন্য কৃষকের জীবন বলীর ঘটনাও আছে। অতএব, সার সঙ্কটের বিষয়টিকে দায়িত্বশীলতার সাথেই দেখতে হবে। সার জালিয়াতির সাথে যে সব অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর সত্যাসত্য যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়। বাংলাদেশে এ সত্য খুবই স্পষ্ট যে, কৃষকে ঠকালে এর নেতিবাচক প্রভাব সইতে হয় দেশের মানুষকে। বিষয়টিকে উপেক্ষা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।