ট্রেন ৫কি.মি চলার পর ফেরৎ আনা হলো, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক
রেলপথ আইনের লঙ্ঘন বলতে টিকিট ছাড়া ভ্রমণ করা, রেললাইনে হাঁটা বা পারাপার করা, রেল চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা, বা রেলের সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করা ইত্যাদিকে বোঝায়। এই ধরনের লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা, কারাদন্ড বা উভয় দন্ড হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, বিনা টিকিটে ভ্রমণের জন্য জরিমানা এবং রেললাইনে অবৈধভাবে প্রবেশের জন্য গ্রেপ্তার হতে পারে। কিন্তু রেলপথের কর্মকর্তা তার ভ্রমণ সুবিধার জন্য ট্রেন চলাচল বিলম্বিত করে কিংবা চালু ট্রেন আবারো স্টেশনে ফেরৎ আনতে চায়- সে ক্ষেত্রে কী বিধান আছে? এমনই একটি ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগযোগ মাধ্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নিয়ে ট্রোল হচ্ছে।
সোনার দেশসহ দেশের বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- রেলপথের এক কর্মকর্তাকে ট্রেনে ভ্রমণের জন্য প্রায় ৫ কি.মি পথ পাড়ি দেয়ার পর ওই ট্রেন আবার ফেরৎ আনা হয়েছে। এতে করে ওই ট্রেনের যাত্রীরা ভীষণ রুষ্ট হোন এবং বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। যাত্রীরা বলেছেন, এই ঘটনা নজিরবিহীন। ঘটনাটি ঠাকুরগাঁও রোড রেল স্টেশনের।
তথ্যমতে, ৩ নভেম্বর বিকাল ৪ :২৬ মিনিটে পঞ্চগড় থেকে পার্বতীপুরগামী কাঞ্চন সেমি আন্তঃনগর ট্রেন স্টেশন ছাড়ার কিছুক্ষণ পর আচমকা পেছনের দিকে চলা শুরু করে। প্রায় পাঁচ কিলোমিটার যাওয়ার পর ট্রেনটি আবার মূল স্টেশনে ফিরে আসে, তখন যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য। বিষয়টি এখানেই থেমে থাকেনি। ওই কর্মকর্তা ট্রেনটিকে ‘লোকাল’ বা ‘নরমাল ট্রেন’ উল্লেখ করে এতে উঠতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং পরবর্তী ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে চান। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়া যাত্রীরা, প্ল্যাটফর্মে বিক্ষোভ করেন এবং রেল প্রশাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। যদিও যাত্রীদের প্রতিবাদের মুখে সেই ট্রেনেই যাত্রা করতে হয় ওই কর্মকর্তাকে। অবশ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাকে না জানিয়েই ট্রেন ছেড়ে যায়, আবার আমাকে না জানিয়েই সেটি ফিরিয়ে আনে।’
কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রেল কর্মকর্তাদের জন্য ট্রেন তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত আনা যেতে পারে, যেমন জরুরি প্রয়োজন বা নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে। তবে এটি একটি অস্বাভাবিক ঘটনা, কারণ সাধারণত এটি যাত্রীদের জন্য নিয়মবহির্ভূত। ট্রেন চলতে শুরু করার পর তা ফেরত আনা হলে, এটি যাত্রীদের জন্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এবং এই ধরনের ঘটনার জন্য কর্তৃপক্ষের ওপর চাপও আসতে পারে।
প্রতিবেদনে রেলপথের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করা হয় যে,‘এটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। একবার প্ল্যাটফর্ম ছাড়ার পর কোনও ট্রেন যাত্রী বা কর্মকর্তার জন্য ফেরানো যায় না।’
প্রায় ৫ কি.মি চলার পর ওই ট্রেন কর্মকর্তার ভ্রমণ সুবিধার জন্য ফেরৎ আনার ঘটনা নজিরবিহীন। ঘটনায় ওই কর্মকর্তা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন, একইভাবে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেছেন যা যাত্রী সাধারণের জন্য অপমানজনক। বিষয়টিকে উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। ওই কর্মকর্তা এবং এই ঘটনার সাথে যে বা যারাই জড়িত থাকুন না কেন,তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেয়া বাঞ্ছনীয়।