মোহপুরে রাতভর ভারীবর্ষণে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

মোস্তফা কামাল, কেশরহাট:
মোহনপুরে রাতভর ভারীবর্ষণে উঠতি আমন ধান, সদ্য রোপনকৃত চৈতালি ফসল, চাষকৃত পুকুরের মাছসহ পানবরজের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) মধ্যরাত হতে সকাল ৭টা পর্যন্ত বিরতিহীন বর্ষণের কারণে আকস্মিক ভাবে তলিয়ে যায় মাঠঘাট, বাড়িঘর ও মাঠের ফসল। প্রায় ১২ ঘণ্টাব্যাপি বিদ্যুৎ বিপর্যয়ে কবলে পড়েন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার সবখানেই কৃষকরা আগাম রসুন, পেঁয়াজ রোপন করেছিলেন। এসব ফসল কোমর পানিতে তলিয়ে সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে গেছে। অপ্রস্তুত অবস্থায় ব্যাপক বৃষ্টিতে অনেক চাষকৃত পুকুরের পাড় তলিয়ে গিয়ে ভেসে গেছে রুই, কাতলা, সিলভার কার্পসহ নানা প্রজাতির মাছ। বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের উপায় না থাকায় তলিয়ে গেছে অসংখ্য পানবরজ। এছাড়াও শেষ রাতের দিকে বৃষ্টির সঙ্গে ঝাপটা বাতাসে উপড়ে পড়েছে অনেক পানবরজসহ গাছপালা। মৌসুম শুরুর প্রথমে চাষকৃত ফসলহানির কারণে অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এই উপজেলার বাসিন্দরা। সর্বোপরী কৃষকের এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার নয় বলে মনে করেন তারা।
শনিবার দুপুরে কথা হয় কেশরহাট পৌর এলাকার হরিদাগাছি গ্রামের কৃষক সালামের সঙ্গে। হতাশ কন্ঠে জানাচ্ছিলেন তার ফসলের ক্ষতির কথা। বড় আশা নিয়ে তিনি প্রায় ৩ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ, রসুন রোপন করে উঠতে না উঠতেই পানিতে ডুবে গেছে । তিনি আরো জানান, এমনিতেই গত বছর কেটেছে কৃষকদের দুর্বিসহ দিন।
উৎপাদিত কোনো ফসলেরই লাভজনক দাম ছিল না। তাই লোকসান পুষিয়ে নিতে এবার ফসল রোপন করে শুরুতেই ক্ষতি মুখে পড়তে হলো। ঋণের জায়গায় ঋণ বাড়ল। কিছুই করার নয়। সবকিছু প্রাকৃতিক ভাবে ঘটে গেল। কৃষক আতাউর রহমান বলেন, আমার চাষকৃত পেঁয়াজের গাছ প্রায় এক ফিট বড় হয়েছিল। সামান্য এক রাতের বৃষ্টিতে তলিয়ে বিনষ্ট হয়ে গেছে। এজন্য কৃষক হিসেবে আমি ক্ষতিগ্রস্ত।
উপজেলার বিষহরা গ্রামের কৃষক শামিম জানিয়েছেন, তার ১০ কাঠা জমির পান বরজ ঝড়বৃষ্টিতে উপড়ে পড়ে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। এই গ্রামের আরো পাঁচজন কৃষকের পান বরজ ঝড়ে উপড়ে পড়েছে।
কেশরহাট পৌর এলাকার কৃষক বাবু রানা জানিয়েছেন, হঠাৎ ব্যাপক বৃষ্টির কারণে আমার প্রায় এক বিঘা জমির পান বরজে পানি ঢুকে পড়েছে এতে বরজের ক্ষতির আশংকা রয়েছে।
মোহনপুর উপজেলা কৃষি অফিসার কামরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রাথমিক ধারণায় বৃষ্টির কারণে কৃষকদের প্রায় ১০ হেক্টর জমির ফসলের ক্ষতির সম্ভাব্য তালিকা ডিডি অফিসে পাঠানো হয়েছে। সম্পূর্ণ হিসেব নিরুপণে কৃষক পর্যায়ে আমাদের জরিপ কার্যক্রম চলছে। এছাড়াও পানি নেমে যাওয়ার পর জেগে ওঠা ফসলে বালায় নাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। পান বরজের পানি দ্রূত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।