রাণীনগরের বিজয় মেলায় দর্শকদের উপচে পড়া ভীড়

🕒 আপডেট: ডিসেম্বর ১৭, ২০২৫, ১২:১২ অপরাহ্ণ


আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ প্রতিনিধি:


দেশব্যাপী ভিন্ন ভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে মহান বিজয় দিবস। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথম বারের মতো সারা দেশের সঙ্গে নওগাঁর রাণীনগরে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে আয়োজন করা হয়েছে তিনদিন ব্যাপী ব্যতিক্রমী বিজয় মেলা। বৃহস্পতিবার (১৮ডিসেম্বর) পর্যন্ত চলবে এই বিজয় মেলা।

মঙ্গলবার (১৬ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গনে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান। উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিরা মেলায় স্থান পাওয়া স্টলগুলো পরিদর্শন করেন।

মেলার বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমীর নিয়মিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠান। এছাড়া মেলায় স্থান পাওয়া নাগরদোলা, বৈদ্যুতিক নৌকার দোলনা, আচারের দোকান, ‘আগুন’ পানের দোকান, হরেক রকমের পিঠার দোকান, কুঠির শিল্পের স্টলসহ বিভিন্ন স্টলে প্রথম দিনে ছিলো দর্শকদের উপচে পড়া ভীড়। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে কয়েক হাজার দর্শনার্থী মেলা প্রাঙ্গনে সবান্ধনে দর্শন করেন। এসময় পুরো মেলা প্রাঙ্গন শিশু থেকে বয়স্কসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।

মেলায় আসা দর্শনার্থী মোছা. নূর জাহান আক্তার জানান একঘেয়েমী অনুষ্ঠানের বহুদিন পর বিজয় দিবসে এই ধরনের ব্যতিক্রমী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গনে এসে খুবই ভালো লেগেছে। শিশুদের জন্য স্থাপন করা হয়েছে ব্যতিক্রমী বিভিন্ন রাইড। এছাড়া সকল বয়সের মানুষের জন্য রয়েছে বিভিন্ন স্টল।

বিশেষ করে গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া শীতকালীন বিভিন্ন সুস্বাদু পিঠার স্টলগুলো বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বিনামূল্যে মুক্তমঞ্চের সংগীতানুষ্ঠান বাড়তি আনন্দের যোগান দিয়েছে। সব মিলিয়ে একটি পরিচ্ছন্ন ও ছিমছাম পরিবেশে অনুষ্ঠিত মহান বিজয় দিবসের এমন আয়োজন সত্যিই যান্ত্রিক এই জীবনে প্রত্যেকটি মানুষকে কিছুটা হলেও বিশুদ্ধ আনন্দের যোগান দিয়েছে। তিনি তিনদিনই এই মেলাতে আসবেন এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরো অনুষ্ঠান উপভোগ করবেন বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান জানান সচরাচর আয়োজনের বাইরে এসে উপজেলাবাসীকে একটি ভিন্নধর্মী বিজয় দিবসের আনন্দ দিতেই মূলত এই ধরনের ব্যতিক্রমী মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হচ্ছেন মেলায় আসা দর্শনার্থীরা।

অপরদিকে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমী সম্পর্কে উপজেলাবাসী জানতে পারছেন। দ্বিতীয় দিনে সংগীতানুষ্ঠানের পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এই তিনদিনের আয়োজনের মাধ্যমে উপজেলাবাসী পরিবারসহ একটু বিশুদ্ধ বিনোদন উপহার হিসেবে পেলেই তবেই আয়োজনটি শতভাগ সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাই পুরো অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ, আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে উপজেলারবাসীর সার্বিক সহযোগিতাসহ স্বত:স্ফ’র্ত অংশগ্রহণ কামনা করেছেন তিনি ।

 

Exit mobile version