আত্রাইয়ে ৭ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে বাম্পার ফলনের আশা

🕒 আপডেট: নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ৩:০৪ অপরাহ্ণ


তপন কুমার সরকার, আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি:


ষড়ঋতুর বৈচিত্র্য মূলত বাংলাদেশের অলংকার। বহুকাল ধরে চলে আসছে ঋতুর এই রকমারি বৈচিত্র্য। গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত ও বসন্ত মিলে বিশ্বের খুব কম দেশেই মেলে এ ছয় ঋতুর দেখা।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ৮ ইউনিয়নের প্রতিটি মাঠ জুড়ে অপরুপ সৌন্দর্যে ভরা আমন ধানের ডগায় দুলছে হেমন্তের শিশির বিন্দু। দিগন্ত জুড়ে যে দিকে তাকায় শুধু সবুজ আর সবুজ। সবুজের সমারোহে যেন চোখ জুড়িয়ে যায়। উপজেলার প্রতিটি মাঠ জুড়ে ধানের শীষে পড়ছে শীতের শিশির বিন্দু। সকাল হলেই সাদা কুয়াশায় জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

দিগন্ত মাঠ জুড়ে ধানের প্রাচুর্য আর হলুদ-সবুজে একাকার অপরূপ প্রকৃতি।
সবুজ বাংলার কৃষি প্রধান এ উপজেলার দিগন্ত জুড়ে খোলা মাঠে দুলছে কৃষকের কাঙ্খিত স্বপ্ন। ধুধু চোখে নজর কাড়ছে আমন ধানের ক্ষেত। ভালো ফলনের আশায় আমন ধান পরিচর্যায় কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। বাড়ি বাড়ি চলছে আমন ধান পরিচর্যার মহোৎসব। কাক ডাকা ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলছে ধান পরিচর্যার কার্যক্রম। ধান ক্ষেতগুলো কৃষকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠেছে।
কার্তিক মাসের শুরতেই ধানের গাছ শিশির ভেজা বাতাসে মাঠের চারিদিক এখন সবুজের সমারোহ। গত বছরের চেয়ে এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে মাঠ জুড়ে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার চলতি মৌসুমে উপজেলার ৮ ইউনিয়নে ৭ হাজার ৩৩৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে।
উপজেলার সাহাগোলা গ্রামের কৃষক শফির উদ্দিন জানান, এবার চারা রোপনের সময় প্রকৃতির পানি সংকট থাকলেও বর্তমানে ধানের গাছ ভাল রয়েছে উল্লেখ করে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আশানুরুপ ফলন ঘরে তোলা সম্ভব।

উপ-সহাকরী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদ হাসান জানান, কৃষকদের ক্ষেতে কঞ্চি পুতে দেয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যাতে ওই সমস্ত কঞ্চিতে পাখি বসে জমির ক্ষতিকর পোকা নিধন করতে পারে। সেই সাথে পরিচর্যা করে কম মাত্রায় কীটনাশক প্রয়োগ করে অধিক ফলনের কৌশল শেখানো হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ প্রসেনজিৎ তালুকদার বলেন, চলতি আমন মৌসুমে কৃষকদের কাঙ্খিত ফসল অর্জনে প্রতিটি ব্লক পর্যায়ে গিয়ে ক্যাম্পেইনসহ নানা ধরণের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। জমির উর্বরতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে আমরা কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করেছি। এছাড়া পোকার আক্রমণ থেকে বাঁচতে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা পাচিং সহ আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করছেন।

 

Exit mobile version