যক্ষা নিয়ে অগ্রগতির তথ্য, তবুও শঙ্কা! ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা দুর্ভাবনা কাটবে কীভাবে?

🕒 আপডেট: নভেম্বর ১৫, ২০২৫, ১২:৫২ পূর্বাহ্ণ

১২ নভেম্বর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে যক্ষায় মৃত্যু ৩ শতাংশ কমেছে। কোভিড-১৯ মহামারির পর এই প্রথম যক্ষ্মা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার একসঙ্গে হ্রাস পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে রেকর্ডসংখ্যক ৮৩ লাখ মানুষ নতুনভাবে শনাক্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি। এছাড়াও যক্ষ্মা চিকিৎসায় সফলতার হারও বেড়েছে। এ হার ৬৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
তবে ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে, আন্তর্জাতিক সহায়তার ঘাটতির কারণে এই অগ্রগতি বিপন্ন হতে পারে। ২০২৪ সালে যক্ষ্মা প্রতিরোধ, শনাক্তকরণ ও চিকিৎসার জন্য মাত্র ৫৯ লাখ মার্কিন ডলার বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছিল। বিশ্বজুড়ে ২০২৪ সালে যক্ষ্মা (টিবি) রোগে ১২ লাখ ৩০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে যক্ষ্মাজনিত মৃত্যুহার ২৯ শতাংশ কমেছে। তবে ২০২৫ সালের মধ্যে এটি ৭৫ শতাংশ এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিনামূল্যে ওষুধ দেয়া হলেও বাংলাদেশের যক্ষ্মার পরিস্থিতি এখনও বেশ উদ্বেগজনক। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দৃষ্টিতে বিশ্বের শীর্ষ যক্ষ্মা-আক্রান্ত দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিদিন প্রায় ৯৭৮ জন নতুন যক্ষ্মারোগী শনাক্ত হচ্ছে, যাদের মধ্যে প্রায় ১৬ জন ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মার শিকার। এই রোগের উচ্চ বিস্তার এবং দৈনিক ১২৯ জন মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী দেশে গত ৯ বছরে শনাক্ত যক্ষ্মা (টিবি) রোগী ৩০ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। শনাক্তের বাইরে রয়েছে অন্তত ২০ শতাংশ রোগী। শনাক্তদের মধ্যে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার নমুনা পাওয়া যাচ্ছে ১ শতাংশ রোগীর দেহে। এ নিয়ে নতুন করে চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য মতে, ২০১৫ সালে শনাক্ত রোগী ছিল দুই লাখ ৯ হাজার ৪৩৮ জন। ২০২৩ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় তিন লাখ এক হাজার ৫৬৪ জনে; এর মধ্যে দুই হাজার ৪৩৭ জন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর। শনাক্ত রোগীদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪২ শতাংশ নারী। ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা (এমডিআর) রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৭২৯।
সরকারি হিসাবে, ২০১৫ সালে যক্ষ্মায় মৃত্যু হয়েছিল প্রতি লাখে ৪৫ জনের। ২০২৩ সালে সেটি কমে হয়েছে ২৫ জন। সে হিসাবে যক্ষ্মায় মৃত্যু ৪২ শতাংশ কমেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শনাক্তের বাইরে থাকা রোগী কিংবা যারা চিকিৎসা পুরোপুরি শেষ করে না তাদের কারণে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মা নতুন উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষ্মার চিকিৎসায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যার গাইডলাইন অনুযায়ী স্বল্পমেয়াদি (ছয় মাস) ওষুধ খাওয়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শনাক্তকরণের হার প্রায় ৮০শতাংশ ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মা এবং ৩৯ শতাংশ ওষুধে সাড়া প্রদানকারী যক্ষ্মার রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে যক্ষা প্রতিরোধে দেশে প্রশিক্ষিত জনবলের অভাব, আধুনিক যন্ত্রপাতির স্বল্পতা ও আর্থিক ঘাটতির সুরাহা করতে হবে। কেবল কাক্সিক্ষত অগ্রগতি তখনই সম্ভব হবে।

 

Exit mobile version