পোরশা উপজেলায় ডাকাতের উৎপাত, পুলিশের তৎপরতা নেই কেন?

🕒 আপডেট: নভেম্বর ১২, ২০২৫, ১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় ডাকাত দলের বেশ বাড়বাড়ন্ত। সারাইগাছী বাজার হতে বন্ধুপাড়া মোড় পর্যন্ত ১০কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কে এক রাতে পৃথক পাঁচটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। রাত ৭ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত সময়ে ওই ডাকাতির ঘটনাগুলো ঘটেছে। সোনার দেশ পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী রোববার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টায় ওই সড়কের বেজোড়া মোড় সংলগ্ন যাত্রী ছাউনি এলাকায় রাস্তার গাছ ফেলে, রাত ৮টায় একই এলাকার ব্রিজের নিকট গাছ ফেলে, রাত ৯টায় বেজোড়া মোড় হতে তারেক জিয়া মোড় সংলগ্ন সড়কে গাছ ফেলে বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতরা যাত্রীদের নগদ টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়। রাত ১০টায় একই এলাকায় সড়কের সাথে লাগানো সফিকুল ও রাজিবুলের দুটি বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি করার পর বাড়িতে আগুন দেয় ডাকাতদল। রাত ১১টায় বেজোড়া মোড় দরগা সংলগ্ন সড়কে ডাকাতদল বিভিন্ন যানবাহনের পথরোধ করে ডাকাতি করে। কী সাংঘাতিক ঘটনা! ডাকাতির এমন নজির পাওয়া দুষ্করই হবে। অথচ পুলিশের তৎপরতা নেই।
ওই ডাকাতির ঘটনাই যথেষ্ট নয়- এর আগে ওই একই স্থানে আরো ডাকাতির ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। ১৫ অক্টোবর দিবাগত রাতে উপজেলার সারাইগাছী-আড্ডা আঞ্চলিক মহাসড়কের মোশানতলা মোড় হতে বন্ধুপাড়া মোড় পর্যন্ত ৭ কিলোমিটারের মধ্যে ৩টি স্থানে ডাকাতরা গাছ ফেলে পথরোধ করে বিভিন্ন যানবাহনে ডাকাতি করে। একই রাতে এই ৭ কিলোমিটারের মধ্যে বেজোড়া মোড়ের তিন নাইট গার্ডদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২০টি দোকানের সমস্ত মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতদল। ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা হতে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ১ঘণ্টা ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে সারাইগাছী-আড্ডা সড়কের মোশানতলা মোড়ে। সেখানে একটি গাছ ফেলে উভয় দিক থেকে আসা বিভিন্ন যানবাহনের পথরোধ করে যাত্রীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোনসহ কাছে থাকা সমস্ত মালামাল নিয়ে নিয়ে যায় ডাকাতদল। অনেকে মালামাল দিতে না চাইলে তাদের মেরে গুরুতর আহত করে প্রায় ২০জনকে। এর আগের সপ্তাহে উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের তাঁতিপাড়া বাজারের মুদিখানা ব্যবসায়ী আলমঙ্গীর হোসেন রাত ৮টার সময় দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। এসময় তার পথরোধ করে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করে তার কাছে থাকা ৪২হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় ডাকাতদল।
উল্লিখিত ডাকাতির ঘটনাগুলোর পর কি বলা যাবে ওই উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলার অবশিষ্ট আছে? খুবই হতাশাজনক চিত্র। থানা পুলিশ ডাকাতদের উৎপাত বন্ধ করতে বিশেষ কোনো পদক্ষেপের কথা জানা নেই। ফলে ডাকাতরাই নির্বিঘœ ডাকাতি চালিয়ে যেতে পারছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার বলছেন, প্রতি মাসের আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে ওই সড়কে ডাকাতির কথা আলোচনা হয়ে থাকে। এতো ডাকাতির ঘটনায় তিনি নিজেও উদ্বিগ্ন।
নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার দাবি করছেন, ওই এলাকায় থানা পুলিশ টহলে থাকে। এর পরেও কেন ডাকাতি হচ্ছে বিষয়টি তার বোধগম্য নয়। তা হলে থানা পুলিশ টহল দেয় কোথায়? টহল দিলে ভরা সন্ধ্যা থেকে মধ্য রাতের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত ডাকাতি হয় কীভাবে? পুলিশের সীমাবদ্ধতা খুবই স্পষ্ট হয়েছে। তাদের অসহায়ত্বই সামনে এসেছে। বিষয়টি শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাদের আমলে নেয়া উচিৎ হবে। নতুবা আইন-শৃঙাখলা নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ক্রমেই বাড়তে থাকবে।

Exit mobile version