পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা, দ্রুত আমদানি করে পরিস্থিতি সামলাতে হবে

🕒 আপডেট: নভেম্বর ৯, ২০২৫, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ

হঠাৎ করেই দেশের পেঁয়াজের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ১ নভেম্বরেও রাজশাহীর বাজারে খুচরা পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা কেজি ধরে। হঠাৎ কী এমন ঘটে গেল যে, ৭ নভেম্বরে পেঁয়াজের দাম চড়লো ১১০ থেকে ১২০ টাকায়। সপ্তার ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়ে গেল ৪০-৫০ টাকা। বিষয়টি খুবই অস্বাভাবিক।
যে কোনো পণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য অজুহাতের শেষ থাকে না। খুচরা বিক্রেতা, পাইকার ও আড়তদাররা তাদের নিজেদের মত করে দাম বাড়ার জন্য ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। কেউ বলছেন বৃষ্টির কথা, কেউ আবার সরবরাহ কম, আবার কেউ বলছেন পেঁয়াজের মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পেঁয়াজের দাম বাড়ার তথ্য মিলেছে সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) সবশেষ তথ্য বলছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম ৪০ শতাংশ বেড়েছে। মাসের ব্যবধানে যা বেড়েছে ৪৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ।
আকস্মিকভাবে পেঁয়াজের দাম বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই বিপাকে পড়েছেন ভোক্তারা। তাদের দাবি, বাজারে সিন্ডিকেশন করে দাম বাড়ানো হয়েছে। ভোক্তারা পাইকারি, মোকাম ও আড়তে এখন থেকেই নজরদারির কথা বলছেন।
বাজারে অপ্রতুল সরবরাহের কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে- এমনটাই বলছেন পাইকার ও আড়ৎদাররা। তাদের এই বক্তব্য কতটুকু সঠিক? সাধারণত এই সময়টাতেই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পায়। সরবরাহের কিছু ঘাটতিও তৈরি হয়- তাই বলে একলাফে কেজিতে দাম বাড়বে ৪০-৫০ টাকা, এটা মেনে নেয়া যায় না। এমনটি হলে ধাপে ধাপে দাম বাড়ার কথা ছিল কিন্তু তেমনটি হয়নি। দাম বাড়ার উর্ধ্বমুখিতাই সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর প্রবণতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এখন প্রশ্ন হলো- পেঁয়াজের অস্থির বাজার সামলাবে কে? অবশ্যই সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। কীভাবে? অবশ্যই দ্রুত পেঁয়াজ আমদানি করে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ স্বাভাবিক করা। দেশের বাজারে পেঁয়াজের দামে লাগাম টানতে আমদানির অনুমতি দেয়ার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন (বিটিটিসি)। ৬ নভেম্বর বাণিজ্য সচিব ও কৃষি সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে কমিশন এমন সুপারিশ করেছে বলে সংবাদ মাধ্যম থেকে জানা গেছে।
ট্যারিফ কমিশন বলেছে, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন সম্প্রতি স্থানীয় বাজারে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধিতে সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। যেখানে দেখা যায়, কতিপয় মধ্যসত্ত্বভোগী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ এই সময়ে ৯০ টাকার মধ্যে থাকার কথা থাকলেও বেড়ে এখন ১১৫ টাকার উপর বিক্রি হচ্ছে। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশে এই পেঁয়াজের দাম এখন প্রায় ৩০ টাকার মধ্যে রয়েছে। তাই সীমিত পরিমাণে পেঁয়াজ আমদানির জন্য দ্রুত অনুমতি দিতে কমিশনের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে পেঁয়াজের উপর মোট ১০ শতাংশ শুল্ককর প্রযোজ্য। পার্শ্ববর্তী দেশে পেঁয়াজের দাম কম থাকায় শুল্ককর হ্রাসের প্রয়োজন নেই। যত দ্রুত এই আমদানি হবে তত কম সময়ে স্থানীয় বাজারে এর সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক হবে।

Exit mobile version