দেশে শিক্ষিত বেকার বাড়ছে, কার্যকর পদক্ষেপ সময়ের দাবি

🕒 আপডেট: নভেম্বর ৪, ২০২৫, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ

অক্টোবরে বিশ্ব ব্যাংক তাদের ব্লগ পোস্টে উল্লেখ করেছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় ৭ কোটিরও বেশি তরুণ-তরুণী স্কুলের বাইরে ও কর্মহীন অবস্থায় থাকবে, যেখানে তরুণীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ সমস্যাটি এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
ব্লগ পোস্টের তথ্যমতে, নারীদের ক্ষেত্রে সামাজিক রীতিনীতি, নিরাপত্তা এবং গৃহস্থালি ও শিশু যতেœর দায়িত্ব তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগকে আরও সীমিত করে দিচ্ছে, বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ কওে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, নীতি-নিয়মের পূর্বানুমানযোগ্যতা, প্রাতিষ্ঠানিক কার্যকারিতা, সঠিক ভৌত ও ডিজিটাল অবকাঠামো কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং সংকট মোকাবিলায় মৌলিক ভূমিকা পালন করবে।
পাশাপাশি, কৃষি ব্যবসা, অবকাঠামো, উৎপাদনশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা এবং পর্যটনের মতো কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ খাতে বাধা দূর করতে এবং বেসরকারি উদ্যোগকে সহায়তা দিতে লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করেছে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে এবং শিক্ষিত বেকার, বিশেষ করে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্যে এই হার বেশি। প্রধান তথ্যসমূহ বেকারত্বের হার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ৬৩তে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ। বিবিএস-এর ২০২৩ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী, দেশে মোট ৬২ লাখ ৫৭ হাজার বেকারের মধ্যে ৫৪ লাখ ১৭ হাজারই শিক্ষিত বেকার। যুব বেকারত্ব: ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী যুবকদের বেকারত্বের হার অনেক বেশি, যা ১১দশমিক ৪৬ শতাংশ।
বাংলাদেশের বেকারত্বের মূল কারণ ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধিও। কিন্তু সে তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে কমই। জনসংখ্যা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির এই ভারসাম্যতা রক্ষা করা গেলে বেকারত্বেও হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনার সুযোগ আছে। কিন্তু পথটি অনেক জটিল ও কঠিন। এর জন্য দুর্নীর্তি ও বৈষ্যম্যমূলক ব্যবস্থাকেই দায়ি করা হয়। মূলত এই জটিল পরিস্থিতির কারণে। বেকার সমস্যা সমাধানে আত্মকর্মসংস্থান, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে সহজ অভিগম্যতা সৃষ্টি করা যাচ্ছে না। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রকট বৈষম্য লক্ষ্য করা যায়। একইভাবে নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও উদ্ভাবনি শক্তির প্রসার হচ্ছে না।
এটা উৎকণ্ঠার বিষয় যে, বেকার সমস্যার আশ সমাধান না হলে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়তে থাকবে। এটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জও বটে। একটি যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ সময়ের দাবি। এই পরিস্থিতি দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত হবে না।

Exit mobile version