সিরাজগঞ্জের গোহালা নদীর সেই ইজারা বাতিল, জেলেদের স্বস্তি

সোনার দেশ ডেস্ক:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় মসজিদ কমিটির দেওয়া গোহালা নদীর সেই ইজারা বাতিল করেছে উপজেলা প্রশাসন। এতে শতাধিক মৎস্যজীবীর পরিবারে মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তারা।
শনিবার সকালে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত উধুনিয়া গ্রামে গিয়ে নদীর আড়াই কিলোমিটার অংশের ইজারা বাতিলের পাশাপাশি ইজারাদারের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরতের নির্দেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার উপজেলার উধুনিয়া বাজার এলাকায় স্থানীয় জামে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে গোহালা নদীর আড়াই কিলোমিটার অংশ মাছ ইজারা দেওয়া হয়। এক লাখ ৬২ হাজার টাকায় নদীটির ইজারা পান ওই গ্রামের ইউসুফ আলী মোল্লা। এতে জীবন-জীবিকা নিয়ে দুচিন্তায় পড়েন শতাধিক জেলে পরিবার।
জেলেদের অভিযোগ, মসজিদ কমিটি উন্নয়ন তহবিল গঠনের কথা বলে এলাকায় মাইকিং করে ইজারার আয়োজন করেছিল।
এ নিয়ে শুক্রবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
সকালে ইউএনও আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত উধুনিয়া গ্রামে গিয়ে মসজিদ কমিটির দেওয়া আড়াই কিলোমিটার অংশের ইজারা বাতিল করেন। একইসঙ্গে ইজারাদারের কাছ থেকে নেওয়া এক লাখ ৬২ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
এ সময় উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ভূঁইয়া, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রশির আহমেদ, উধুনিয়া মসজিদ কমিটির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন ঝড়ু, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম এবং সহসভাপতি আব্দুল হামিদ উপস্থিত ছিলেন।
তাৎক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করে ঘোষণা দেওয়া হয়- গোহালা নদীতে এখন থেকে সবাই মাছ ধরতে পারবেন, কাউকে কোনো টাকা দিতে হবে না। নদী সরকারি সম্পত্তি, কেউ ইজারা দিতে পারবে না।
ইউএনও আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, নদী সরকারি সম্পদ। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নদী ইজারা দিতে পারে না। মসজিদ কমিটির দেওয়া ইজারা বাতিল এবং ইজারাদারকে টাকাও ফেরত দেওয়া হয়েছে।
এখন থেকে স্থানীয় মৎস্যজীবীরা আগের মতো নদীতে মাছ ধরতে পারবেন বলে জানান ইউএনও।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ