‘গোহালা নদী’র আড়াই কিলোমিটার ইজারা দিল মসজিদ কমিটি, শঙ্কায় জেলেরা

সোনার দেশ ডেস্ক:
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় গোহালা নদীর আড়াই কিলোমিটার এলাকা ইজারা দিয়েছে স্থানীয় একটি মসজিদ কমিটি। এতে জীবন-জীবিকা নিয়ে দুচিন্তায় পড়েছে স্থানীয় শতাধিক জেলে পরিবার।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার উধুনিয়া গ্রামের ওই নদীর আড়াই কিলোমিটার অংশ ইজারা দেয় ‘উধুনিয়া বাজার জামে মসজিদ’ কমিটি। এর আগে দরপত্রে অংশ নিতে মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে এলাকায় মাইকিং করানো হয়।
ইজারার কারণে আশ্বিন মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত ইজাদার ছাড়া অন্য কেউ নদীর নির্ধারিত আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে মাছ ধরতে পারবে না বলে ওই মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ জানিয়েছেন।
তবে প্রশাসন বলছে, নদী সরকারি সম্পদ। কোন ব্যক্তি বা কমিটির নদী ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার নেই।
গোহালা নদীটি দৈর্ঘ্য ২৮ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৯৩ মিটার। স্থানীয় মৎস্যজীবীরা এ নদীতে সারা বছর মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উধুনিয়া গ্রামের ইউসুফ আলী মোল্লা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬২ হাজার টাকায় গোহালা নদীর আড়াই কিলোমিটার এলাকা ইজারা পেয়েছেন।
মসজিদ কমিটির নিয়ম অনুযায়ী বাংলা আশ্বিন মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত ইজারাদার ছাড়া কেউ ওই নদীতে মাছ ধরতে পারবে না বলে সেখানে ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে কেউ মাছ ধরতে চাইলে ইজারাদারকে টাকা দিতে হবে।
ফলে এ অঞ্চলের শতাধিক মৎস্যজীবী নদীতে মাছ ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা।
উধুনিয়া গ্রামের প্রবীণ মৎস্যজীবী আব্দুল মান্নান ফকির বলেন, “গত ৪০ বছর ধরে গোহালা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা চালাই। আগে কোনদিন নদীতে ইজারা পদ্ধতি ছিল না।
“এবার নদী ইজারা দেওয়ায় অন্তত ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ইজারাদারকে দিতে হবে। নইলে নদীতে জাল নামাতে দেবে না।”
১৫ বছর ধরে গোহালা নদীতে মাছ ধরে আসা মৎস্যজীবী ইসমাইল হোসেন বলছিলেন, “আগে নদীতে মাছ ধরতে কারও অনুমতি লাগতো না। মসজিদ কমিটি এ বছর নদী ইজারা দেওয়ায় মাছ ধরতে হলে টাকা দিতে হবে।
“এই এলাকায় শতাধিক পেশাদার ও অপেশাদার মৎস্যজীবী রয়েছে। ইজারার কারণে সবাইকে বাড়তি টাকা গুনতে হবে। নদী ইজারা দেওয়া যায়, এবারই প্রথম দেখছি।”
ইজারাদার ইউসুফ আলী মোল্লা বলেন, “সর্বোচ্চ দর ১ লাখ ৬২ হাজার টাকায় আড়াই কিলোমিটার গোহালা নদীর ইজারা পেয়েছি। মসজিদ কমিটি মাধ্যমে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে এই ইজারা পেয়েছি।”
ইজারা দেওয়ার কারণ হিসেবে উধুনিয়া জামে মসজিদের সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ বলছেন, “মসজিদ উন্নয়নের তহবিল সংগ্রহের জন্য এই ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারাদার ব্যতিত অন্য কেউ চাইলেই নির্ধারিত আড়াই কিলোমিটারের মধ্যে মাছ ধরতে পারবে না।”
এ বিষয়ে উল্লাপাড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আতাউর রহমান বলেন, “নদীতে মাছ ধরার জন্য কোন মসজিদ কমিটির ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।”
উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু সালেহ মোহাম্মদ হাসনাত বলেন, নদী সরকারি সম্পদ। কোন ব্যক্তি বা কমিটি নদী ইজারা দিতে পারে না।
এ কাজে কেউ জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।
নদী ইজারা দেওয়ার কোন নিয়ম নেই জানিয়ে জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম শুক্রবার দুপুরে বলেন, “বিষয়টি দেখছি”।
তথ্যসূত্র: বিডিনিউজ