শিবগঞ্জে নক্শী কাঁথা ও আচার তৈরি করে স্বাবলম্বী শামিমার মাসিক ৪০ হাজার টাকা আয়

🕒 আপডেট: জুন ১, ২০২৪, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ


শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা :


কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন ধরনের নক্শী কাঁথা, আচার ও কুমড়া বুড়ি নিজ হাতে তৈরি করে বিক্রি করে মাসে ৪০ হাজার টাকা আয় করার মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন নারী উদ্যোক্তা শামীমা খাতুন। শামীমা জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের ধোবড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আলেপ আলি টিসুর মেয়ে এবং শিবগঞ্জ পৌরসভার দৌলতপুর মহাজন পাড়ার সামীমুল ইসলামের স্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) সরেজমিনে শামিমার সাথে কথা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি জানান, ১০ বছর আগে নক্শী কাঁথা সেলাই করার কাজ শুরু করি। তখন কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই পারিবারিক শিক্ষাকে পুঁজি করে শুরু করলেও পরবর্তীতে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিউলী বেগমের নেতৃত্বে জাতীয় মহিলা সংস্থায় প্রশিক্ষণ নিয়েছি। বর্তমানে আমি ২৫ জন অসহায় ও বেকার নারীকে সংগে নিয়ে নক্শী কাঁথা সেলাইয়ের কাজ করি।

মান অনুসারে কাঁথাগুলো সেলাই করতে নিম্নে ১৫ দিন ও উর্দ্ধে আড়াই থেকে তিন মাস সময় লাগে। পারিশ্রমিক দিতে হয় ছয়শো টাকা থেকে দুই হাজার টাকা। বিক্রি করি দুই হাজার থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকায়। কাঁথাগুলো বিভিন্ন ধরনের নাম রয়েছে। যেমন শুজনী কাঁথা, বকুল কাঁথা,কার্বেট কাঁথা,এসি কাঁথা,স্টিক কাঁথা,হাসোরী কাঁথা,পিটাফুল কাঁথা,খেজুর পাতা,বিস্কুট কাঁথা সোজাফোঁড় সহ প্রায় ১৫ ধরনের কাঁথা। এ ব্যবসা অনলাইন ও অফ লাইনে দুই ভাবে করা যায়। অনলাইনে কাঁথাগুলো জেলার বাইরে সরবরাহ করা হয়।

তাছাড়া বিভিন্ন ধরনের মেলা ও অর্ডারে বিক্রি করা হয়। কাঁথা তৈরি করতে বর্তমানে ২৫ জন নারী কাজ করেন। প্রতিমাসে গড়ে ১৫/২০টি কাঁথা বিক্রি করতে পারি। আয় হয় প্রায় ২০ হাজার টাকা। ভবিষ্যতে আয় বাড়বে। কারণ কাজের পরিধি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া আমি নিজ হাতে আম থেকে আম্চুর, আমতা (আমস্বত্ত) জলপাইয়ের আচার, তেঁতুলের আচার, আমের আচার, রসুনের আচার ,চকলেট আচার, বরই আচার সহ প্রায় ১৫ ধরনের আচার ও কুমড়া বড়ি নিজ হাতে তৈরি করে অনলাইনে ও অফলাইনে বিক্রি করে থাকি।

কুমড়া বড়ি কেজি প্রতি ১৪শো টাকা, চকলেট আচার ৭শো টাকা কেজি, রসুনের আচার ১৪শো টাকা কেজি, বরই আচার ১১শো টাকা কেজি সহ বিভিন্ন আচার বিভিন্ন দরে বিক্রি করি। আচার বিক্রি করে খরচ বাদে প্রতিমাসে আয় করি ২০ হাজার টাকা । শামীমা খাতুন তার প্রতিক্রিয়ার বলেন, লেখাপড়া করার পাশাপাশি আমি কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত নক্শী কাঁথা ও আচারের ব্যবসা করে নিজেকে স্বাবলম্বী হতে পেরে নিজেকে গর্ববোধ করি। এ ব্যবসার আয় দিয়েই আমার দুই সন্তানকে লেখাপড়া করাচ্ছি, নিজেও লেখাপড়া শেষ করতে চলেছি।

তাছাড়া সংসারের খরচতো আছেই। তাই চাকরির পিছনে না ছুটে আমি আমার এ ব্যবসাকেই সম্প্রসারণ করবো। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক দৈনিক ইত্তেফাকের জেলাা প্রতিনিধি বীর মুক্তিযোদ্ধা তসলিম উদ্দিন বলেন, কুটির শিল্প শুধু শিবগঞ্জের নয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ঐতিহ্য। এ কাজ করে এ সময় অনেক নারী সংসার চালাতো। বর্তমানে এ চাহিদা ব্যাপক। সরকারিভাবে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিলে নক্শী কাঁথা ও আচার তৈরি করেই হাজার হাজার অসহায় ও বেকার নারীদের কর্মসংস্থান হতে পারে।

শিবগঞ্জ উপজেলা জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শিউলী বেগম জানান, আমি দীর্ঘদিন যাবত উপজেলার অসহায় ও দুস্থ বেকার নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। যেখান থেকে শামীমা প্রশিক্ষণ নিয়ে শুধু নিজ্ েস্বাবলম্বী হয়নি সংগে আরো ২০/২৫জনকে স্বাবলম্বী করতে চেষ্টা করছে।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন শামীমা খাতুন কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত নক্শী কাঁথা ও বিভিন্ন ধরনের আচার তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়ে শিবগঞ্জে ইতিহাস সৃৃষ্টি করেছে। আমরা উপজেলার পক্ষ থেকে এগুলোর সম্প্রসারণের জন্য প্রতিবছরই বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করে থাকি। ফলে কুটির শিল্পের সম্প্রসারণ ঘটেছে এবং ভবিষ্যতে আরো সম্প্রসারণ হবে।

 

Exit mobile version