জনবল ও ওষুধ সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

🕒 আপডেট: ডিসেম্বর ১৫, ২০২৩, ১১:০৬ অপরাহ্ণ


শিবগঞ্জ সংবাদদাতা:


দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কর্মরত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনে সেবা কার্যক্রম চললেও নানাবিধ সমস্যার মধ্যে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।

শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, ২০ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ১২ জন। সূত্র মতে (চক্ষু) অর্থপেডিক্স, পেডিয়াট্রিক্স,এনেসথেসিয়া ,মেডিকেলঅফিসার (আবাসিক) প্যাথলজিস্ট, এনেসথেসিওলজিস্ট, সহকারী সার্জন, মেডিকেল অফিসার (এমও ) পদ শূন্য রয়েছে। অন্যদিকে, কর্মচারীদের মধ্যে স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে ৩ জন, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক পদে ২ জন, স্বাস্থ্য সহকারী পদে ২৭ জন, কম্পাউন্ডার পদে ১, কার্ডিওগ্রাফার পদে ১, জুনিয়ার মেকানিক পদে ১ জন, ল্যাব এটেনডেন্ট পদে ১, ওটি বয় পদে ১, ইমারজেন্সি এনটেনডেন্ট পদে ১, এমএলএসএস পদে দুইজন, ওয়ার্ড বয় পদে ৩ জন, সুইপার পদে ২জন, নিরাপত্তা প্রহরী পদে ২জন।

অন্যদিকে, ১৫টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রয়েছে ব্যাপক জনবল সংকট। এ ১৫টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের মধ্যে মেডিকেল অফিসার পদে ৩ জন, স্যাকমো-১১ পদে ৩ জন এমএলএসএস পদে ৬ জন, ফার্মাস্টি-১১ পদে ২জন ও সহকারী সার্জন পদে ২জন করে দীর্ঘদিন যাবত শূন্য রয়েছে।

শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা চত্বরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরিবার পরিকল্পনা চত্বর জুড়ে দালাদের দৌরাত্ব। দালালরা প্রতিটা রোগীকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করছে। রোগী ধরে দালালরা বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যাচ্ছে।

দালালরা ক্লিনিকের সাথে রোগী প্রতি চুক্তি করে এবং সন্ধ্যার সময় হিসাব নিকাশ করে টাকা লেন দেন করে থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশের সময় দালালরা নানা উপায়ে প্রভাবিত করে প্রতারণার চেষ্টা করে। চিকিৎসক থাকলেও নেই বলে ক্লিনিকে নিয়ে যাবার চেষ্টা করে এবং কাউকে কাউকে নিয়েও যাচ্ছে।

সূত্রমতে, এ ধরনের প্রায় ৩০ জন দালাল রয়েছে। আবার রোগী বুঝে বলে যে এখানে ভাল চিকিৎসা হবে না উমুক ক্লিনিকে যাও ভাল চিকিৎসক আছে। আবার কোন কোন রোগীর অভিযোগ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চিকিৎসকরা চিকিৎসা করলে ঔষধ দেয় না। বাহির থেকে ঔষধ কিনতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ ঔষধ থাকলে তারা দেয় না।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সরকারী ্ঔষধ বাহিরের দোকানে বিক্রি হচ্ছে। যাব প্রমান কৌশলে দোকানে গিয়ে ঔষধ কিনে পাওযা গেছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা দাঁড়িয়ে আছে এবং ব্যবস্থা পত্রের ছবি তুলছে। এমনকি দায়িত্বরত চিকিৎসকদের রুমে গিয়ে আলোচনা করছে এবং বিভিন্ন ধরনের উপঢৌকন দিচ্ছেন।

শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসার সায়েরা খান সরকারি ঔষধ বাহিরে বিক্রি, কোম্পানীর প্রতিনিধিদের ভীড় করা ও মাদকাসক্ত ও বখাটেদের আড্ডা এসমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও জনবল সংকট ও দালালদের দৌরাত্বে কথা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা জনবল সংকটের ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে আশা করি খুব শীঘ্রই শুন্য পদগুলি পূরণ হবে। দালালদের দৌরাত্ত কমানোর জন্য সাম্প্রতিক কালে উপজেলার প্রতিটি ক্লিনিককে, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ও সংশ্লিষ্ট কর্তকর্তাদেরকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কোন প্রতিকার হচ্ছে না। তবে দালাল প্রতিরোধ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

Exit mobile version